ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি: মির্জা ফখরুল

মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস আজ (৪ এপ্রিল) নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলোতে সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তেলিয়াপাড়া দিবস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণসহ দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে সকাল ১১টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। এখান থেকেই সেক্টর ভাগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান-এর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, সে সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বোরখা পরে তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকা চলে যান এবং তাকে বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরেনি বরং বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন জীবন, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ অন্য নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষণ করুন

দুর্গাপূজায় ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘কাট-পিস’

শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি: মির্জা ফখরুল

আপডেট হয়েছে : ০১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস আজ (৪ এপ্রিল) নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলোতে সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তেলিয়াপাড়া দিবস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণসহ দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে সকাল ১১টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। এখান থেকেই সেক্টর ভাগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান-এর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, সে সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বোরখা পরে তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকা চলে যান এবং তাকে বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরেনি বরং বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন জীবন, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ অন্য নেতারা।