স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যে আদর্শিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল শিক্ষাঙ্গন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের মূল উৎস হচ্ছে দলীয় রাজনীতির সরাসরি প্রভাব। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনগুলো নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে ক্যাম্পাসে শক্তি প্রদর্শন, হল দখল, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং নবাগত শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে এমন শত শত প্রমাণিত অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
একসময় আদর্শচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছাত্ররাজনীতি এখন অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা ও দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ, মারধর, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে দেশের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব ঘটনার ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ভীতি তৈরি হচ্ছে। অনেকে নিরপেক্ষভাবে শিক্ষাজীবন কাটানোর সুযোগ হারাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি একসময় নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তা অনেকাংশে ‘ক্ষমতার উপশাখা’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের নানা প্রভাব সরাসরি ক্যাম্পাসে পড়ে, যা স্বাধীন ছাত্ররাজনীতির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও ক্ষমতাশীন দলের নিয়োগকৃত আপাদমস্তক দলীয় শিক্ষক ও প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া কর্ণপাত করছেন না। বরং দলীয় শিক্ষক ও প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নানানভাবে নিরুৎসাহীত করছেন।
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও সহিংসতা কেবল শিক্ষার পরিবেশকেই নষ্ট করছে না, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করছে। একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে নীতিগত পরিবর্তন, দলীয় প্রভাবমুক্ত ক্যাম্পাস, আদর্শভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরন, ছাত্ররাজনীতির গঠনমূলক সংস্কার, আবাসিক হল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, সচেতনতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকরী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণই পারে শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে।

বিশেষ প্রতিবেদন 





















