ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব ঘুম দিবস

ছবি: আনাছ বিনতে জাহেদ ও তালহা বিনতে সাহেদ

কমছে ঘুম, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রায় মানুষের ঘুম যেন ক্রমেই বিলাসিতা

রাত গভীর, শহরের আলো নিভে এলেও অসংখ্য মানুষের চোখে তখনো ঘুম নেই। হাতে স্মার্টফোন, চোখ স্ক্রিনে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে করতে কেটে যাচ্ছে সময়। আধুনিক জীবনের এই চিত্র এখন খুবই পরিচিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। ঘুমের ঘাটতি এখন বিশ্বজুড়ে এক নীরব স্বাস্থ্যসংকটে পরিণত হয়েছে।

এই বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে **বিশ্ব ঘুম দিবস**। প্রতিবছর মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসংস্থা, গবেষক ও চিকিৎসকরা এ দিনটিকে ঘিরে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনধারার কারণে বিশ্বজুড়ে ঘুমের ঘাটতি একটি বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রা মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দকে ব্যাহত করছে। এর ফলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা

বাংলাদেশেও ঘুমের সংকট ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শহুরে জীবনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যানজট, পড়াশোনার চাপ এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম পাচ্ছেন না। তরুণদের মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার প্রবণতা বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কেন জরুরি ভালো ঘুম

চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঘুমের অভাবে যে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া ঘুমের ঘাটতি মানুষের কর্মক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “মানুষের সুস্থ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুম শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।”

ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন—

* প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা

* ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার কমানো

* ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় সীমিত করা

* নিয়মিত শরীরচর্চা করা* আরামদায়ক ও শান্ত পরিবেশে ঘুমানো।

তথ্যচিত্র: সুস্থ ঘুমের জন্য প্রয়োজন

* প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম

* কিশোরদের জন্য ৮–১০ ঘণ্টা

* শিশুদের জন্য ৯–১২ ঘণ্টা

* পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়

* নিয়মিত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের সুস্থ জীবনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। বিশ্ব ঘুম দিবস তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের ঘুমকে অবহেলা না করে তাকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ ভালো ঘুমই সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবনের চাবিকাঠি।

সর্বাধিক পঠিত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ বিশ্ব ঘুম দিবস

আপডেট হয়েছে : ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

কমছে ঘুম, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রায় মানুষের ঘুম যেন ক্রমেই বিলাসিতা

রাত গভীর, শহরের আলো নিভে এলেও অসংখ্য মানুষের চোখে তখনো ঘুম নেই। হাতে স্মার্টফোন, চোখ স্ক্রিনে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে করতে কেটে যাচ্ছে সময়। আধুনিক জীবনের এই চিত্র এখন খুবই পরিচিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। ঘুমের ঘাটতি এখন বিশ্বজুড়ে এক নীরব স্বাস্থ্যসংকটে পরিণত হয়েছে।

এই বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে **বিশ্ব ঘুম দিবস**। প্রতিবছর মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসংস্থা, গবেষক ও চিকিৎসকরা এ দিনটিকে ঘিরে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনধারার কারণে বিশ্বজুড়ে ঘুমের ঘাটতি একটি বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রা মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দকে ব্যাহত করছে। এর ফলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা

বাংলাদেশেও ঘুমের সংকট ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শহুরে জীবনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যানজট, পড়াশোনার চাপ এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম পাচ্ছেন না। তরুণদের মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার প্রবণতা বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কেন জরুরি ভালো ঘুম

চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঘুমের অভাবে যে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া ঘুমের ঘাটতি মানুষের কর্মক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “মানুষের সুস্থ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুম শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।”

ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন—

* প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা

* ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার কমানো

* ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় সীমিত করা

* নিয়মিত শরীরচর্চা করা* আরামদায়ক ও শান্ত পরিবেশে ঘুমানো।

তথ্যচিত্র: সুস্থ ঘুমের জন্য প্রয়োজন

* প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম

* কিশোরদের জন্য ৮–১০ ঘণ্টা

* শিশুদের জন্য ৯–১২ ঘণ্টা

* পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়

* নিয়মিত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের সুস্থ জীবনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। বিশ্ব ঘুম দিবস তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের ঘুমকে অবহেলা না করে তাকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ ভালো ঘুমই সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবনের চাবিকাঠি।