ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ অধিবেশনে আমন্ত্রণ নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালককে

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে  যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। উক্ত অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ কিশোর গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করে আলোচনায় আসা রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ।

রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ হয় নাফিজ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে একটি রিকশার পাদানিতে তুলে দেয়। তখনও নাফিজ রিকশার রড শক্ত করে ধরেছিল।

রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বাধা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক জানান। পরে তিনি নাফিজকে নিয়ে খামারবাড়ির দিকে রওনা হন।

দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ ওই সময় রিকশার পাদানিতে ঝুলে থাকা নাফিজের কয়েকটি ছবি ধারণ করেন। ৪ আগস্ট দিবাগত রাতে পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দেখেই নাফিজের পরিবার সন্তানের খোঁজ পায়।

ছবিতে রিকশার পেছনে থাকা একটি মুঠোফোন নম্বর দেখে নূর মোহাম্মদের সন্ধান পান পরিবারের সদস্যরা। পরে নূর মোহাম্মদ জানান, সেদিন তিনি ফার্মগেট এলাকায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান। এক পুলিশ সদস্য তাকে ডাকলে অন্যরা আহত একজনকে তার রিকশায় তুলে দেন। হাসপাতালে নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার পর খামারবাড়ি এলাকায় গেলে কয়েকজন নাফিজকে দ্রুত একটি অটোরিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার পর গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের রিকশাটি হস্তান্তর করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদ অধিবেশনে আমন্ত্রণ নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালককে

আপডেট হয়েছে : ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে  যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। উক্ত অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ কিশোর গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করে আলোচনায় আসা রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ।

রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ হয় নাফিজ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে একটি রিকশার পাদানিতে তুলে দেয়। তখনও নাফিজ রিকশার রড শক্ত করে ধরেছিল।

রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বাধা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক জানান। পরে তিনি নাফিজকে নিয়ে খামারবাড়ির দিকে রওনা হন।

দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ ওই সময় রিকশার পাদানিতে ঝুলে থাকা নাফিজের কয়েকটি ছবি ধারণ করেন। ৪ আগস্ট দিবাগত রাতে পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দেখেই নাফিজের পরিবার সন্তানের খোঁজ পায়।

ছবিতে রিকশার পেছনে থাকা একটি মুঠোফোন নম্বর দেখে নূর মোহাম্মদের সন্ধান পান পরিবারের সদস্যরা। পরে নূর মোহাম্মদ জানান, সেদিন তিনি ফার্মগেট এলাকায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান। এক পুলিশ সদস্য তাকে ডাকলে অন্যরা আহত একজনকে তার রিকশায় তুলে দেন। হাসপাতালে নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার পর খামারবাড়ি এলাকায় গেলে কয়েকজন নাফিজকে দ্রুত একটি অটোরিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার পর গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের রিকশাটি হস্তান্তর করা হয়।