ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ মহিউদ্দিন

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন

নব নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত উন্নয়নের নিরিখে জাতীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য থাকা পদগুলোতে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং ত্যাগী ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই পূর্বক নিয়োগ প্রদান করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে রাজনৈতিক মাঠে।
যা ইতিমধ্যে সরকার প্রধান ও দলীয় নীতিনির্ধারক পরিষদের নজর কেড়েছে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বেশকিছু দলীয় নেতার নাম উঠে এসেছে। এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকার মধ্যে অধিকতর এগিয়ে রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন।

জেলা প্রশাসক পদে অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন এর নাম ঘুরেফিরে আসায় বিষয়টি এখন জেলা ও উপজেলা রাজনীতির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান,  সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি থাকাকালীন তার হাত ধরে অনেকেই আখের গুছালেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কলঙ্কের লেপন করতে চাননি তিনি। রাজনীতিই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। সব শেষে দলের সিদ্ধান্তে সাতকানিয়া থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে মাথা গোজার একমাত্র ঠাঁই; ফ্ল্যাটটিসহ বেশকিছু পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। তখন থেকে আওয়ামী সরকারের নানান রকম পাশবিক নির্যাতনে সহায় সম্বল হারিয়ে নগরীর ছোট্ট একটি ভাড়া বাসায়, কোন রকমে দিন পার করছেন। শুধু তাই নয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের হাতে তাকে গুমের শিকার হতে হয়।

অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মাস্টার আব্দুল ওয়াজেদ পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক পাসের পর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির একজন তৃনমূল কর্মী হিসেবে বিভিন্ন ইউনিট নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পড়ালেখা শেষ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজে অধ্যাপনা পেশায় যোগদান করেন। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলায় বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

অধ্যাপক মহিউদ্দিন ৮০’র দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১/১১ এর দুঃসময়ে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দান ও একাধিকবার হামলা-মামলা কারাবরণসহ সর্বশেষ বিগত ১৭ বছরে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন হামলা-মামলা ও গুমের শিকার হন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ কাউন্সিলে নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। তিনি পর্যায়ক্রমে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৮ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া লোহাগাড়া) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। পরে জোটের সমীকরণের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জোটের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত‍্যাহার করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে, চট্টগ্রামে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় যেসব নেতা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন তাদের মধ্যে শেখ মহিউদ্দিন অন্যতম। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময় মাঠে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীদের মুখে শুনা যায়, ১/১১ এর সময় মাঠে-ময়দানে যখন কেউ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে সাহস করেনি, সে সময় নিজস্ব পরিবহনে করে শুধু মাত্র সাত জন নেতাকর্মী নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৬তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাঙ্গুনিয়ায় জিয়া নগরের জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে গিয়ে তখনকার প্রশাসন ও বিভিন্ন এজেন্সির বাধার মুখেও পিছু হঠেননি তিনি। শত বাধা ও গ্রেপ্তারের হুমকি উপেক্ষা করে শহীদ জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন।

মূলত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হওয়ায় তৃণমূল রাজনীতির মাঠে তার অবস্থান দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তাই চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও আপামর জনসাধরণ। তাছাড়া বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে অধিকতর গ্রহণযোগ্য।

অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন জানান, সারাজীবন জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি পথ-প্রান্তরে। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম সম্মুখ সারিতে, ছিলাম দলের দুঃসময়ে। কোন দিন হালুয়া-রুটির চিন্তা না করে অনেক ত্যাগ, মামলা, হামলা, গুম ও নির্যাতন সহ্য করে এখনও দলীয় নির্দেশ পালনে এক মুহূর্তের জন্যও পিছপা হইনি।

তিনি আরও বলেন, দল যদি মনে করেন আমার মত একজন ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বসালে সাধারণ মানুষের উপকার হবে, তাতে আমার আপত্তি নাই। কারণ আমার রাজনীতি সব সময় ছিল জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী। বয়সে সত্তরের কোটায় এসে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদনের মাধ্যমে জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পাব।

চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাসহ ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান , বিএনপি জেলা প্রশাসক পদে দলীয় নেতাদের বসালেও সেখানে প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেশি আছে এমন ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যার হাত দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। এজন‍্য অধ‍্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিনে বিকল্প নেই। তারা মনে করেণ, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার অবকাঠামো সংস্কার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একজন দক্ষ প্রশাসক খুবই দরকার। এক্ষেত্রে বিএনপি নেতা শেখ মহিউদ্দিন গ্রহনযোগ্য ও নির্লোভ ব্যক্তি। তাকে প্রশাসক পদে বসালে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে রাজনৈতিক বিচার বিবেচনায় শেখ মহিউদ্দিন একজন আগাগোড়া রাজনীতিবিদ। তার মত ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দিলে উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল‍্যায়ন করবেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ মহিউদ্দিন

আপডেট হয়েছে : ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

নব নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত উন্নয়নের নিরিখে জাতীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য থাকা পদগুলোতে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং ত্যাগী ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই পূর্বক নিয়োগ প্রদান করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে রাজনৈতিক মাঠে।
যা ইতিমধ্যে সরকার প্রধান ও দলীয় নীতিনির্ধারক পরিষদের নজর কেড়েছে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বেশকিছু দলীয় নেতার নাম উঠে এসেছে। এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকার মধ্যে অধিকতর এগিয়ে রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন।

জেলা প্রশাসক পদে অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন এর নাম ঘুরেফিরে আসায় বিষয়টি এখন জেলা ও উপজেলা রাজনীতির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান,  সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি থাকাকালীন তার হাত ধরে অনেকেই আখের গুছালেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কলঙ্কের লেপন করতে চাননি তিনি। রাজনীতিই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। সব শেষে দলের সিদ্ধান্তে সাতকানিয়া থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে মাথা গোজার একমাত্র ঠাঁই; ফ্ল্যাটটিসহ বেশকিছু পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। তখন থেকে আওয়ামী সরকারের নানান রকম পাশবিক নির্যাতনে সহায় সম্বল হারিয়ে নগরীর ছোট্ট একটি ভাড়া বাসায়, কোন রকমে দিন পার করছেন। শুধু তাই নয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের হাতে তাকে গুমের শিকার হতে হয়।

অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মাস্টার আব্দুল ওয়াজেদ পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক পাসের পর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির একজন তৃনমূল কর্মী হিসেবে বিভিন্ন ইউনিট নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পড়ালেখা শেষ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজে অধ্যাপনা পেশায় যোগদান করেন। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলায় বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

অধ্যাপক মহিউদ্দিন ৮০’র দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১/১১ এর দুঃসময়ে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দান ও একাধিকবার হামলা-মামলা কারাবরণসহ সর্বশেষ বিগত ১৭ বছরে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন হামলা-মামলা ও গুমের শিকার হন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ কাউন্সিলে নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। তিনি পর্যায়ক্রমে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৮ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া লোহাগাড়া) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। পরে জোটের সমীকরণের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জোটের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত‍্যাহার করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে, চট্টগ্রামে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় যেসব নেতা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন তাদের মধ্যে শেখ মহিউদ্দিন অন্যতম। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময় মাঠে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীদের মুখে শুনা যায়, ১/১১ এর সময় মাঠে-ময়দানে যখন কেউ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে সাহস করেনি, সে সময় নিজস্ব পরিবহনে করে শুধু মাত্র সাত জন নেতাকর্মী নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৬তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাঙ্গুনিয়ায় জিয়া নগরের জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে গিয়ে তখনকার প্রশাসন ও বিভিন্ন এজেন্সির বাধার মুখেও পিছু হঠেননি তিনি। শত বাধা ও গ্রেপ্তারের হুমকি উপেক্ষা করে শহীদ জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন।

মূলত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হওয়ায় তৃণমূল রাজনীতির মাঠে তার অবস্থান দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তাই চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও আপামর জনসাধরণ। তাছাড়া বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে অধিকতর গ্রহণযোগ্য।

অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন জানান, সারাজীবন জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি পথ-প্রান্তরে। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম সম্মুখ সারিতে, ছিলাম দলের দুঃসময়ে। কোন দিন হালুয়া-রুটির চিন্তা না করে অনেক ত্যাগ, মামলা, হামলা, গুম ও নির্যাতন সহ্য করে এখনও দলীয় নির্দেশ পালনে এক মুহূর্তের জন্যও পিছপা হইনি।

তিনি আরও বলেন, দল যদি মনে করেন আমার মত একজন ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বসালে সাধারণ মানুষের উপকার হবে, তাতে আমার আপত্তি নাই। কারণ আমার রাজনীতি সব সময় ছিল জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী। বয়সে সত্তরের কোটায় এসে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদনের মাধ্যমে জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পাব।

চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাসহ ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান , বিএনপি জেলা প্রশাসক পদে দলীয় নেতাদের বসালেও সেখানে প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেশি আছে এমন ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যার হাত দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। এজন‍্য অধ‍্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিনে বিকল্প নেই। তারা মনে করেণ, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার অবকাঠামো সংস্কার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একজন দক্ষ প্রশাসক খুবই দরকার। এক্ষেত্রে বিএনপি নেতা শেখ মহিউদ্দিন গ্রহনযোগ্য ও নির্লোভ ব্যক্তি। তাকে প্রশাসক পদে বসালে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে রাজনৈতিক বিচার বিবেচনায় শেখ মহিউদ্দিন একজন আগাগোড়া রাজনীতিবিদ। তার মত ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দিলে উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল‍্যায়ন করবেন তিনি।