ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে জ্বালানির দাম

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা করছে ইরান। এ সময় বিভিন্ন তেল শোধনাগার এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনের অবকাঠামোতেও হামলা হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এসব স্থাপনায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জ্বালানি উৎপাদন। পাশাপাশি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইনখ্যাত হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে রকেট গতিতে বেড়েছে জ্বালানির দাম।

ব্রেন্ট ক্রুডকে বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। গতকাল সোমবার এর দাম ১০% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর এই বৃদ্ধি দেখা যায়।

প্রাথমিকভাবে দাম বাড়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় ৭.৬% বেড়ে ৭২.২০ ডলারে দাঁড়ায়।

ইরান দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল না করতে সতর্ক করেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে সংকট সহসা কাটবে বলে মনে হচ্ছে না।

এদিকে গতকাল কাতারে এলএনজি স্থাপনায় হামলার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কাতার এনার্জি। ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত।

অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে পতন ঘটেছে। লন্ডনে এফটিএসই ১০০ শেয়ারবাজার সূচক প্রায় ১% কমে লেনদেন শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমান সংস্থাগুলোর শেয়ারের দাম কমে যায়। ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও বড় পতন দেখা গেছে। ফ্রান্সের সিএসি-৪০ সূচক ১.৬% এবং জার্মানির ডিএএক্স সূচক ১.৭% কমেছে।

এদিকে অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনার দাম ২.৩% বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৯৫.৯৯ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে। সূত্র: বিবিসি

সর্বাধিক পঠিত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাড়ছে জ্বালানির দাম

আপডেট হয়েছে : ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা করছে ইরান। এ সময় বিভিন্ন তেল শোধনাগার এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনের অবকাঠামোতেও হামলা হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এসব স্থাপনায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জ্বালানি উৎপাদন। পাশাপাশি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইনখ্যাত হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে রকেট গতিতে বেড়েছে জ্বালানির দাম।

ব্রেন্ট ক্রুডকে বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। গতকাল সোমবার এর দাম ১০% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর এই বৃদ্ধি দেখা যায়।

প্রাথমিকভাবে দাম বাড়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় ৭.৬% বেড়ে ৭২.২০ ডলারে দাঁড়ায়।

ইরান দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল না করতে সতর্ক করেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে সংকট সহসা কাটবে বলে মনে হচ্ছে না।

এদিকে গতকাল কাতারে এলএনজি স্থাপনায় হামলার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কাতার এনার্জি। ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত।

অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে পতন ঘটেছে। লন্ডনে এফটিএসই ১০০ শেয়ারবাজার সূচক প্রায় ১% কমে লেনদেন শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমান সংস্থাগুলোর শেয়ারের দাম কমে যায়। ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও বড় পতন দেখা গেছে। ফ্রান্সের সিএসি-৪০ সূচক ১.৬% এবং জার্মানির ডিএএক্স সূচক ১.৭% কমেছে।

এদিকে অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনার দাম ২.৩% বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৯৫.৯৯ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে। সূত্র: বিবিসি