ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তদন্তে প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখে প্রধান বয়লার পরিদর্শক

প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান

স্বার্থের সংঘাত ও জাল নিবন্ধন প্রমাণিত, অবৈধ সম্পদ ইস্যুতে আরও গভীর অনুসন্ধানের সুপারিশ — প্রধান বয়লার পরিদর্শক আব্দুল মান্নানকে ঘিরে প্রশ্ন

প্রধান বয়লার পরিদর্শক আব্দুল মান্নান–এর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে “অধিকতর তদন্ত” প্রয়োজন বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, “টেকনো কেয়ার” নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের ভাগ্নের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বয়লার ডিজাইন করেছে—এ বিষয়টি প্রমাণিত। সরকারি দায়িত্বে থেকে নিকটাত্মীয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে এমন সম্পৃক্ততা স্বার্থের সংঘাতের শামিল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিবেদনের আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই নির্মাতার নম্বর ব্যবহার করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দুইটি বয়লার নিবন্ধন করা হয়েছে—যা আইন লঙ্ঘন হিসেবে প্রমাণিত। এ ঘটনাকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিভাগীয় অপরাধের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।

অন্যদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে কমিটি বলেছে—এটি অধিকতর অনুসন্ধানসাপেক্ষ। ফলে সম্পদ সংক্রান্ত অভিযোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

প্রশাসনিক সূত্র মতে, এ ধরনের অভিযোগে প্রয়োজন হলে পৃথক অনুসন্ধান বা বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রধান বয়লার পরিদর্শক আব্দুল মান্নানকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না এলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি দপ্তরে স্বার্থসংঘাত এড়াতে স্পষ্ট নীতিমালা ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য যে এর আগে প্রধান বয়লার পরিদর্শক আব্দুল মান্নানকে ঘিরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তাঁর কর্ম ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ নিয়ে বহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এদিকে তার বিরুদ্ধে অপসারণসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে গত ২৪ জুলাই একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে মতামত জমা দিতে বলা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্য, নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন।

অভিযুক্ত প্রধান বয়লার পরিদর্শকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে, তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তদন্তে প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখে প্রধান বয়লার পরিদর্শক

আপডেট হয়েছে : ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

স্বার্থের সংঘাত ও জাল নিবন্ধন প্রমাণিত, অবৈধ সম্পদ ইস্যুতে আরও গভীর অনুসন্ধানের সুপারিশ — প্রধান বয়লার পরিদর্শক আব্দুল মান্নানকে ঘিরে প্রশ্ন

প্রধান বয়লার পরিদর্শক আব্দুল মান্নান–এর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে “অধিকতর তদন্ত” প্রয়োজন বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, “টেকনো কেয়ার” নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের ভাগ্নের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বয়লার ডিজাইন করেছে—এ বিষয়টি প্রমাণিত। সরকারি দায়িত্বে থেকে নিকটাত্মীয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে এমন সম্পৃক্ততা স্বার্থের সংঘাতের শামিল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিবেদনের আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই নির্মাতার নম্বর ব্যবহার করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দুইটি বয়লার নিবন্ধন করা হয়েছে—যা আইন লঙ্ঘন হিসেবে প্রমাণিত। এ ঘটনাকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিভাগীয় অপরাধের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।

অন্যদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে কমিটি বলেছে—এটি অধিকতর অনুসন্ধানসাপেক্ষ। ফলে সম্পদ সংক্রান্ত অভিযোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

প্রশাসনিক সূত্র মতে, এ ধরনের অভিযোগে প্রয়োজন হলে পৃথক অনুসন্ধান বা বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রধান বয়লার পরিদর্শক আব্দুল মান্নানকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না এলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি দপ্তরে স্বার্থসংঘাত এড়াতে স্পষ্ট নীতিমালা ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য যে এর আগে প্রধান বয়লার পরিদর্শক আব্দুল মান্নানকে ঘিরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তাঁর কর্ম ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ নিয়ে বহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এদিকে তার বিরুদ্ধে অপসারণসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে গত ২৪ জুলাই একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে মতামত জমা দিতে বলা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্য, নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন।

অভিযুক্ত প্রধান বয়লার পরিদর্শকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে, তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে।