ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক স্কুল থেকে ৬ চিকিৎসক স্বাস্থ্য ক্যাডারে

সদ্য যোগদানকৃত ছয় সার্জন

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একসাথে ছয়জন চিকিৎসক ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন।

একই বিসিএসে একটি বিদ্যালয় থেকে ছয়জনের স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন এসএসসি ২০০৯ ব্যাচের, একজন ২০১২ ব্যাচের, একজন ২০১৩ ব্যাচের এবং বাকি তিনজন এসএসসি ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বিশেষ করে ২০১৪ ব্যাচের তিনজন একসাথে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ায় বিষয়টি আরও গৌরবের।

ঈশ্বরগঞ্জের এই ছয় কৃতী সন্তানের সাফল্যে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের ফজলুর রহমান ও রওশন আরা বেগম দম্পতির ছেলে ডাঃ রিয়াদ।

২০১৪ সালে এসএসসি, ২০১৬ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। কয়েক বছর প্রস্তুতির পর ৪৮তম বিসিএসে সফল হন। বর্তমানে তিনি মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত।

তিনি বলেন, বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর স্বপ্ন পূরণই ছিল জীবনের লক্ষ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তিনি।

ধামদী এলাকার মো. গিয়াস উদ্দিন ও রায়হানা আক্তারের মেয়ে ডাঃ নিশাদ ফারহানা।

২০১৪ সালে এসএসসি ও ২০১৬ সালে এইচএসসি শেষে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষা, ত্যাগ ও নির্ঘুম পরিশ্রমের ফল আজকের এই সাফল্য।

সঞ্জিত কুমার দাস ও বীণা রাণী দাসের মেয়ে ডাঃ জয়িতা দাস।

২০১৪ সালে এসএসসি ও ২০১৬ সালে এইচএসসি শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের ওএমএস বিভাগে পিজিটি সম্পন্ন করেছেন।

বর্তমানে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মরত। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি।

ডাঃ মো. আনোয়ার রহমান ইমন (এসএসসি ২০০৯) – ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস; বর্তমানে ইউরোলজিতে এমএস অধ্যয়নরত এবং কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন।

ডাঃ নির্জনা রাউত তন্বী (এসএসসি ২০১২) – শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট; হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন।

ডাঃ অনন্যা সরকার (এসএসসি ২০১৩) – ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস; ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. মোস্তফা কামাল বলেন, একই বিসিএসে ছয়জন শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান বিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ে এসে বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবেন।

সর্বাধিক পঠিত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এক স্কুল থেকে ৬ চিকিৎসক স্বাস্থ্য ক্যাডারে

আপডেট হয়েছে : ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একসাথে ছয়জন চিকিৎসক ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন।

একই বিসিএসে একটি বিদ্যালয় থেকে ছয়জনের স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন এসএসসি ২০০৯ ব্যাচের, একজন ২০১২ ব্যাচের, একজন ২০১৩ ব্যাচের এবং বাকি তিনজন এসএসসি ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বিশেষ করে ২০১৪ ব্যাচের তিনজন একসাথে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ায় বিষয়টি আরও গৌরবের।

ঈশ্বরগঞ্জের এই ছয় কৃতী সন্তানের সাফল্যে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের ফজলুর রহমান ও রওশন আরা বেগম দম্পতির ছেলে ডাঃ রিয়াদ।

২০১৪ সালে এসএসসি, ২০১৬ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। কয়েক বছর প্রস্তুতির পর ৪৮তম বিসিএসে সফল হন। বর্তমানে তিনি মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত।

তিনি বলেন, বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর স্বপ্ন পূরণই ছিল জীবনের লক্ষ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তিনি।

ধামদী এলাকার মো. গিয়াস উদ্দিন ও রায়হানা আক্তারের মেয়ে ডাঃ নিশাদ ফারহানা।

২০১৪ সালে এসএসসি ও ২০১৬ সালে এইচএসসি শেষে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষা, ত্যাগ ও নির্ঘুম পরিশ্রমের ফল আজকের এই সাফল্য।

সঞ্জিত কুমার দাস ও বীণা রাণী দাসের মেয়ে ডাঃ জয়িতা দাস।

২০১৪ সালে এসএসসি ও ২০১৬ সালে এইচএসসি শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের ওএমএস বিভাগে পিজিটি সম্পন্ন করেছেন।

বর্তমানে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মরত। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি।

ডাঃ মো. আনোয়ার রহমান ইমন (এসএসসি ২০০৯) – ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস; বর্তমানে ইউরোলজিতে এমএস অধ্যয়নরত এবং কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন।

ডাঃ নির্জনা রাউত তন্বী (এসএসসি ২০১২) – শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট; হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন।

ডাঃ অনন্যা সরকার (এসএসসি ২০১৩) – ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস; ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. মোস্তফা কামাল বলেন, একই বিসিএসে ছয়জন শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান বিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ে এসে বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবেন।