ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপডেট হয়েছে : ০৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • 91

বিরোধী দলের ওয়াকআউট, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং তীব্র প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

এর আগে অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানান, তখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানালেও বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি এবং মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান।

সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি কড়া ভাষায় রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় অভিভাবক হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি। তিনি ফ্যাসিবাদী খুনি সরকারের সহযোগী ছিলেন। এই পবিত্র সংসদে বক্তব্য দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার তার নেই।’

বিরোধী দলের অন্য নেতারাও অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তাদের কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষণ করুন

দুর্গাপূজায় ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘কাট-পিস’

সংসদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি

আপডেট হয়েছে : ০৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বিরোধী দলের ওয়াকআউট, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং তীব্র প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

এর আগে অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানান, তখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানালেও বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি এবং মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান।

সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি কড়া ভাষায় রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় অভিভাবক হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি। তিনি ফ্যাসিবাদী খুনি সরকারের সহযোগী ছিলেন। এই পবিত্র সংসদে বক্তব্য দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার তার নেই।’

বিরোধী দলের অন্য নেতারাও অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তাদের কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।