ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তার হল ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম খলনায়ক

সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম খলনায়ক, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের অন্যতম নেপথ্য নায়ক ফেনী-৩ আসনের সাবেক বিনা ভোটের এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করেছে ডিবি। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল বারিধারা ডিওএইএস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সাবেক এই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

 তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।’ জানালেন ডিআইজি শফিকুল ইসলাম।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের পর কথিত দুর্নীতিবিরোধী গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন।

তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন। সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল।

২০০৬ সালের শেষ ভাগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর রাজনৈতিক মতানৈক্যের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত দলগুলো।

ওই অবস্থায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা-হানাহানির মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে জিম্মি করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য করে প্রভাবশালী কুশীলবেরা। বাতিল করা হয় ২২ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন।

আলোচিত সেই ঘটনাপ্রবাহের শুরুর দিনটি পরিচিতি পায় ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে। বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, ‘এক-এগারো’ না ঘটলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারাই আবার ক্ষমতায় ফিরতেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামরিক কর্মকর্তাদের অন্যতম নায়ক ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

সেই সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর সামরিক গোয়েন্দা হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের একপর্যায়ে ওপরে তুলে শূন্য থেকে ফ্লোরে ফেলে তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার কথা তখন জানা যায়। জেনারেল অব. মাসুদের তত্ত্বাবধানে কতিপয় অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তা পারিবারিক সূত্রে খালেদা জিয়া পরিবারের আত্মীয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। সেই সুবাদে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে পদোন্নতি পান এবং গুরুত্বপূর্ণ নবম ডিভিশনের দায়িত্ব পান।

গ্রেপ্তার হল ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম খলনায়ক

আপডেট হয়েছে : ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম খলনায়ক, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের অন্যতম নেপথ্য নায়ক ফেনী-৩ আসনের সাবেক বিনা ভোটের এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করেছে ডিবি। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল বারিধারা ডিওএইএস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সাবেক এই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

 তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।’ জানালেন ডিআইজি শফিকুল ইসলাম।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের পর কথিত দুর্নীতিবিরোধী গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন।

তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন। সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল।

২০০৬ সালের শেষ ভাগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর রাজনৈতিক মতানৈক্যের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত দলগুলো।

ওই অবস্থায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা-হানাহানির মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে জিম্মি করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য করে প্রভাবশালী কুশীলবেরা। বাতিল করা হয় ২২ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন।

আলোচিত সেই ঘটনাপ্রবাহের শুরুর দিনটি পরিচিতি পায় ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে। বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, ‘এক-এগারো’ না ঘটলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারাই আবার ক্ষমতায় ফিরতেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামরিক কর্মকর্তাদের অন্যতম নায়ক ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

সেই সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর সামরিক গোয়েন্দা হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের একপর্যায়ে ওপরে তুলে শূন্য থেকে ফ্লোরে ফেলে তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার কথা তখন জানা যায়। জেনারেল অব. মাসুদের তত্ত্বাবধানে কতিপয় অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তা পারিবারিক সূত্রে খালেদা জিয়া পরিবারের আত্মীয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। সেই সুবাদে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে পদোন্নতি পান এবং গুরুত্বপূর্ণ নবম ডিভিশনের দায়িত্ব পান।