ইরান যদি তাদের বর্তমান পরমাণু নীতি ও অভ্যন্তরীণ দমনপীড়ন থেকে সরে না আসে, তবে তেহরানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি। শুক্রবার সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিগুলো কেবল কথার কথা নয়, বরং তা বাস্তব পদক্ষেপের পূর্বাভাস।গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল নৌবহর অগ্রসর হচ্ছে। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও রণতরী সমৃদ্ধ এই বিশাল সামরিক বহরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে হুকাবি রহস্য বজায় রেখে বলেন, “যখন জানার সময় হবে, তখন ইরান নিজেই তা বুঝতে পারবে।” বিশ্লেষকরা এই সামরিক তৎপরতাকে ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
রাষ্ট্রদূত হুকাবি গত বছরের জুন মাসে ইরানের চারটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “গত গ্রীষ্মে ইরান একটি শক্তিশালী হামলার শিকার হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেছিলেন, ঠিক তা-ই করে দেখিয়েছেন। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।”পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। গত ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তেহরান কঠোরভাবে দমন করার পর ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল। হুকাবি হুঁশিয়ারি দেন, “ইরান যদি আবারও বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে বা ফাঁসিতে ঝোলায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।”
সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক চাপ—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে তেহরানকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের এই বিশাল নৌবহরের যাত্রার জবাবে তেহরান কী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র: আল-আরাবিয়া






















