ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের টিকিট পেলেও অনিশ্চয়তায় ইরান

  • আপডেট হয়েছে : ০২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • 77

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতা এখন তাদের বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেও এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে ইরান। মাঠের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেও, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতা এখন তাদের বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিহাস গড়ে প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় ইরান। কিন্তু মাঠের সেই আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে আশঙ্কায়। টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরী কূটনৈতিক সম্পর্ক ফুটবলারদের ভিসা প্রাপ্তিকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিনটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ড্র অনুষ্ঠানের পর গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে।

এর ফলে ইরানি ফুটবলার এবং কর্মকর্তাদের ভিসা পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে ড্র বর্জনের ঘোষণা দিলেও পরে ইরান সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অংশগ্রহণ আবারো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী ইরান ‘জি’ গ্রুপে স্থান পেয়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী বেলজিয়াম,মিশর ও নিউজিল্যান্ড। তবে মাঠের এই লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ইরানকে এখন লড়তে হচ্ছে টেবিলের লড়াইয়ে।

যদি রাজনৈতিক কারণে ইরান শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় অথবা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অক্ষম হয়, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একটি বিকল্প দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফিফার নীতিমালা বলছে, কোনো দল অংশগ্রহণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্লে-অফের রানার-আপ বা সেই মহাদেশের উচ্চতম র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা (যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা) দলটিকে সুযোগ দেওয়া হবে।

এই সমীকরণে লটারি লেগে যেতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের। কারণ এশিয়ান কোয়ালিফায়ার্সে ইরানের পেছনে থেকে তারা তাদের গ্রুপে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল, যারা সরাসরি মূল পর্বে যেতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফুটবল প্রেমীরা মনে করছেন, ফুটবলের মহোৎসবে রাজনীতির প্রভাব পড়াটা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা। তবে ফিফা বা আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য সংরক্ষণ করুন

দুর্গাপূজায় ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘কাট-পিস’

বিশ্বকাপের টিকিট পেলেও অনিশ্চয়তায় ইরান

আপডেট হয়েছে : ০২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেও এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে ইরান। মাঠের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেও, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতা এখন তাদের বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিহাস গড়ে প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় ইরান। কিন্তু মাঠের সেই আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে আশঙ্কায়। টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরী কূটনৈতিক সম্পর্ক ফুটবলারদের ভিসা প্রাপ্তিকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিনটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ড্র অনুষ্ঠানের পর গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে।

এর ফলে ইরানি ফুটবলার এবং কর্মকর্তাদের ভিসা পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে ড্র বর্জনের ঘোষণা দিলেও পরে ইরান সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অংশগ্রহণ আবারো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী ইরান ‘জি’ গ্রুপে স্থান পেয়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী বেলজিয়াম,মিশর ও নিউজিল্যান্ড। তবে মাঠের এই লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ইরানকে এখন লড়তে হচ্ছে টেবিলের লড়াইয়ে।

যদি রাজনৈতিক কারণে ইরান শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় অথবা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অক্ষম হয়, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একটি বিকল্প দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফিফার নীতিমালা বলছে, কোনো দল অংশগ্রহণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্লে-অফের রানার-আপ বা সেই মহাদেশের উচ্চতম র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা (যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা) দলটিকে সুযোগ দেওয়া হবে।

এই সমীকরণে লটারি লেগে যেতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের। কারণ এশিয়ান কোয়ালিফায়ার্সে ইরানের পেছনে থেকে তারা তাদের গ্রুপে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল, যারা সরাসরি মূল পর্বে যেতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফুটবল প্রেমীরা মনে করছেন, ফুটবলের মহোৎসবে রাজনীতির প্রভাব পড়াটা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা। তবে ফিফা বা আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।