শুক্রবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে এক লাইভে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়ে দেশের মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, যমুনার সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার ঘটনা নির্বাচন বানচাল করতেই ঘটানো হয়েছে। এ সময় তিনি আরো বলেন, লীগ অ্যাক্টিভ হয়ে সাধারণ জনতার সাথে মিশে পরিস্থিতি অন্যদিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে।
পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল করে আসন্ন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, সরকার ৮ তারিখ পর্যন্ত সময় চেয়েছে এবং ইনকিলাব মঞ্চ ও দেশের মানুষ সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে এর রাজনৈতিক দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
জাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই সহিংস পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তারা দাবি করে, হামলার ধরন ও কৌশল ফ্যাসিবাদী সময়ের সঙ্গে মিল রয়েছে।
জাতিসংঘের কাছে পাঠানো চিঠির বিষয়ে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্পষ্ট করে বলি শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনেই হতে হবে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি অবশ্যই এই অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতিসংঘের কাছে চিঠি প্রেরণ করতে হবে। সরকারকে আমরা ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিলাম। তারা যেহেতু বলেছে পাঠাবে। চিঠি শুধু প্রেরণ করলেই হবে না, এক্ষেত্রে আমাদের কিছু দাবি রয়েছে। সরকারকে, জাতিসংঘকে অনুরোধ করতে হবে যেন তারা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ইনভেস্টিগেশন পরিচালনা করে। এই তদন্তের স্পষ্ট কার্যপরিধি থাকবে যাতে ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ, দায়ী ব্যক্তি ও তাদের সহায়ক নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে করণীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে। তদন্তে শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয় বরং আড়ালে থাকা পরিকল্পনাকারী, সহযোগিতাকারী, আশ্রয়-প্রশ্রয়কারী ও পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করা হয় সে বিষয়েও অনুরোধ করতে হবে। আর এক্ষেত্রে সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এতে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ ও স্থান সমূহে প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে, একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বা অরাষ্ট্রীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ থাকবে না এর নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। কিছু অভিযুক্ত সন্দেহ ভাজন বিদেশে পালিয়ে থাকতে পারে এমন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারকে ওএসসি এইচআর এর সহায়তা চাইতে হবে। যাতে স্ট্রাকচারড ক্রস বর্ডার কোঅপারেশন নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স ও ইনফরমেশন শেয়ারিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে দায়ীরা জবাবদিহিতা এড়িয়ে যেতে না পারে। মূল কথা হচ্ছে— শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনেই হইতে হবে এবং এই তদন্ত কাজ যাতে কোনো ধরনের বাধাগ্রস্ত না হয় সব ধরনের সহযোগিতা এই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। এর বাইরে আমাদের কাছে কোনো সেকেন্ড অপশন নাই।



















