সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরো উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পঞ্চগড় এক আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের সমর্থনে আয়োজিত এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এবারের নির্বাচনে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নিজেরা ভোট দিলেই হবে না। সাধারণ মানুষের বিশেষ করে আমাদের মা-বোনদের ভোট দেওয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একদিন কষ্ট করলে আগামী পাঁচ বছর নিরাপদে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের এক নাম্বার আসনে এক নাম্বার প্রার্থী লাগবে। আপনাদের এই আসন থেকে এমপি মন্ত্রী হয়েছে ঠিকই কিন্তু এই এলাকার সন্তানদের জন্য কোনো কাজ করে নাই। যিনি এমপি না হয়েই আপনাদের এলাকার পর্যটন শিল্প ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে। এখন আপনারা সারজিস আলমকে এমপি বানালে আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাবেন। আমরা চাই আপনাদের ছেলেও একদিন চেয়ারম্যান, কমিশনার, এমপি ও মন্ত্রী হবে। শাপলা কলিতে ভোট দিলে আপনাদের এই পঞ্চগড় জেলায় কাউকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে না। চিকিৎসার অভাবে কাউকে মরতে হবে না। আমরা ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই।
এ সময়, পঞ্চগড় এক আসনে এগারো দলীয় ঐক্য জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম বলেন, কারা গত দিনগুলোতে কারা মামলাবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন করেছে, তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করুন। উপস্থিতি আপনারা যাচাই করুন, কারা এই ধরনের খারাপ কাজ করেছে তাদের ভোট দিবেন না। যদি আমাদের নেতাকর্মীরা করে তাহলে আমাদেরকেও ভোট দিবেন না। একজন ভালো নেতা যদি তার নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে কখনো ভালো নেতা হতে পারে না। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই বোনদের বলতে চাই, আমরা এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মন্দির ও পূজার মণ্ডপ পাহারা দিয়েছি। অথচ একটা বড় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার পুকুর দখল করেছে। আপনাদের জায়গা-জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করেছে। এই দখলবাজদের প্রত্যাখান করুন।
স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নের বিএনপির প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, সদর হাসপাতালের নতুন বিল্ডিং চালু করতে জামায়াত, এনসিপিসহ সকল রাজনৈতিক দল টাকা দিয়েছে কিন্তু বিএনপি এত বড় দল একটা টাকাও দিতে পারে নাই। যারা নির্বাচনের সময় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে কিন্তু পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে পারে না।
এ সময় তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, , যখন তারেক রহমান বলেন আমার একটি প্ল্যান আছে। আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু কিছুদিন পরই দেখি নারীদের উপর হামলা, মানুষ হত্যা করা শুরু করে দিয়েছে। “জনাব তারেক রহমান আপনার নেতাকর্মীরা শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে খুন করেছে। নিজেরা নিজেরা কামড়াকামড়ি করে ২০০ শত মানুষকে খুন করেছে। আপনি আপনার নেতাকর্মীদের থামান। নির্বাচনের আগে পরে আরও কতজনকে খুন করার পরিকল্পনা করেছেন? আমরা শোষক ও শাসক হতে আসি নাই, সেবক হতে এসেছি। ”
পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ইকবাল হোসাইন বলেন, আমরা যে ঐক্য গড়েছি হেরে যাওয়ার জন্য নয়। আমরা কোনো ধর্ষক, খুনি, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও নারী নির্যাতককে সংসদে পাঠাবো না। আমরা সবাই মিলে পঞ্চগড় জেলা এক আসনে সারজিস আলমকে বিজয়ী করবো ইনশাআল্লাহ। এবার ভোট চুরি করার সুযোগ দিব না। আমরা ভোটের দুই দিন আগে গ্রামে গ্রামে পাহারার ব্যাবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ। যেই হাত ভোট চুরি করতে চাইবে, ওই হাতকে অবাশ করে দিব ইনশাআল্লাহ।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, একটা বড় রাজনৈতিক দলের নেতা আছে, যারা মিথ্যা হলফনামা দিয়ে সংসদে যেতে চায়। আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি এনসিপির একজনও মিথ্যা হলফনামা দেয় নাই। এটাই এনসিপির নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। আপনারা যদি চান, শহীদ হাদীর খুনিদের বিচার তাহলে আপনাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে।
পঞ্চগড় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি জুলফিকার আলির সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির শিক্ষা ও গবেষণা সেলের সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, বাংলাদেশ লেবার পার্টির পঞ্চগড় জেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পঞ্চগড় জেলার সভাপতি মীর মোর্শেদ তুহিন, এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারী ইয়াছির আরাফাত প্রমুখ।




















