সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ যেন এক ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে বন্দি না হয়, সে জন্য বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি।
আলী রীয়াজ বলেছেন, লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ সনদের পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা প্রত্যেকে যদি অন্তত পাঁচজন মানুষকে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন, তাহলে ছয় লাখ মানুষের সমর্থন পাওয়া সম্ভব।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর দেশের ওপর চেপে বসতে না পারে এবং কোনো ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে মানুষ যেন আবার নিপীড়িত না হয়, সে জন্য জুলাই সনদের বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকার ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। ফলে মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেলেও কোনো দল সরকার গঠন না করতে পারলে তাদের পাঁচজন প্রতিনিধি উচ্চকক্ষে থাকার সুযোগ থাকবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষে কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করবে।
‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতীক সম্পর্কে আলী রীয়াজ বলেন, গোলাপি ব্যালটে থাকা ‘টিক চিহ্ন’ই ‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক। রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হলে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম মোল্লা এবং নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ছায়েদুর রহমান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।




















