ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতা নিহত

নিহত উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার অনুষ্ঠানে সামনের সারির চেয়ারে বসার মত তুচ্ছ কারণে ঘটনার সূত্রপাত।ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে (শেরপুর-৩ আসন) সব প্রার্থীর ইশেতহার প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল সহকারী রিটার্নিং তথা ইউএনওর আয়োজনে।

বেলা আড়াইটার অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থীর সমথর্করা আগে দিয়ে সামনে চেয়ারে বসেন। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পার্শ্ববর্তী উপজেলা শ্রীবরদী নির্বাচনের প্রচারে থাকায় তাঁর আসতে বিলম্ব হয়। তাই তাঁর সমর্থক কর্মীরাও বিলম্বে আসেন। ততক্ষণে অনুষ্ঠানস্থলের সামনে ৫০০ আসনের অধিকাংশ জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী সমর্থকরা বসে পড়েন।

এ সময় বিএনপি নেতারা ইউএনওকে বলেন, অর্ধেক অর্ধেক আসন ভাগ করে দিতে। ইউএনও জামায়াত প্রার্থীকে বলেন, কিছু চেয়ার ছেড়ে দিতে। জামায়াত প্রার্থী মাইকে কর্মীদের আসন ছাড়তে বলেন। তখন সমর্থকরা সামনের সারির অর্ধেক আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে পেছনের কিছু চেয়ার খালি করে দেয়।

এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলেও দুই পক্ষ স্লোগান দেয়। জামায়াতের সমর্থকদের চেয়ার থেকে তুলতে গেলে, হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময়ে চেয়ার ছুঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। হাতাহাতি হয়। এ সময়টাতে পুলিশের ভূমিকা ছিল নিরব ।

বিএনপির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে দক্ষিণে ঝিনাইগাতী বাজারে অবস্থান নেয়।

পরক্ষণে খবর আসে ‘ফাহমী গোলন্দাজ সোহেল’ নামের এক বিএনপি কর্মী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে, ‘জামায়াতের বাদলকে পেলে জ/বা/ই করা হবে’। এ নিয়ে শুরু হয় চরম উত্তেজনা।

পাশের বাজারে দেশীয় অ/স্ত্র নিয়ে অবস্থান নেওয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং জেদ ধরে তারা বাদলকে এই রাস্তা দিয়ে গেলেই আঘাত হানবে। কিন্তু জামায়াত প্রার্থী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা শ্রীবরদী উপজেলার নেতাকর্মীরা নিজ এলাকায় ফিরতে হলে, বাজার হয়ে যেতে হবে। জামায়াত প্রার্থী জীবন গেলেও বাজারের রাস্তা দিয়েই যাওয়ার জেদে অনড় থাকেন। প্রশাসন প্রার্থীকে নিরাপত্তা দিয়ে ওই রাস্তায় দিয়ে একা পাড় করে দেওয়ার প্রস্তাব করে। তবে প্রার্থী কর্মী সমর্থকদেরও নিরাপত্তা দিয়ে রাস্তা পার করিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বারবার বলতে থাকেন, আমি পালিয়ে যাব না।

এ সময় মাইকে বিএনপির কেউ একজন উত্তেজক ভাষণ দেয়, গুপ্ত জঙ্গী সংগঠনকে প্রত্যাখান করেছে মানুষ। বলে দেয়, বাদলকে ঘুরে যেতে হবে। নতুবা শ্রীবরদীর লোকজনকে মারা হবে। ইউএনও এবং পুলিশ বিএনপির কর্মীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে রাজি করাতে পারেনি।

সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম এলাকায় থাকা জামায়াতের হাজারখানেক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। এই সময়ে দুই পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় পিছু হটলেও, বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তা ছাড়েনি। সেনাবাহিনী ও পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়।

মিনিট ১৫ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা ধাওয়া এবং হামলা করে। ধাওয়ায় জামায়াত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে রাস্তা এবং উত্তরে স্টেডিয়ামের দিকে চলে যায়। পেছনে পরে যান জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তাঁকে তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা একা পেয়ে কোপায়।

প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানাই, পুলিশ যদি বাজারের রাস্তা অবরোধ করা বিএনপির কর্মীদের সরে যেতে বাধ্য করত কিংবা জামায়াতের প্রার্থীকে ঘুরে যেতে বাধ্য করত- তাহলেও প্রাণহানীর মত কিছু ঘটত না।

পাল্টাপাল্টি হামলায় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাই। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০জন আহত হন।

সর্বাধিক পঠিত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেরপুরে বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতা নিহত

আপডেট হয়েছে : ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার অনুষ্ঠানে সামনের সারির চেয়ারে বসার মত তুচ্ছ কারণে ঘটনার সূত্রপাত।ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে (শেরপুর-৩ আসন) সব প্রার্থীর ইশেতহার প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল সহকারী রিটার্নিং তথা ইউএনওর আয়োজনে।

বেলা আড়াইটার অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থীর সমথর্করা আগে দিয়ে সামনে চেয়ারে বসেন। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পার্শ্ববর্তী উপজেলা শ্রীবরদী নির্বাচনের প্রচারে থাকায় তাঁর আসতে বিলম্ব হয়। তাই তাঁর সমর্থক কর্মীরাও বিলম্বে আসেন। ততক্ষণে অনুষ্ঠানস্থলের সামনে ৫০০ আসনের অধিকাংশ জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী সমর্থকরা বসে পড়েন।

এ সময় বিএনপি নেতারা ইউএনওকে বলেন, অর্ধেক অর্ধেক আসন ভাগ করে দিতে। ইউএনও জামায়াত প্রার্থীকে বলেন, কিছু চেয়ার ছেড়ে দিতে। জামায়াত প্রার্থী মাইকে কর্মীদের আসন ছাড়তে বলেন। তখন সমর্থকরা সামনের সারির অর্ধেক আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে পেছনের কিছু চেয়ার খালি করে দেয়।

এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলেও দুই পক্ষ স্লোগান দেয়। জামায়াতের সমর্থকদের চেয়ার থেকে তুলতে গেলে, হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময়ে চেয়ার ছুঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। হাতাহাতি হয়। এ সময়টাতে পুলিশের ভূমিকা ছিল নিরব ।

বিএনপির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে দক্ষিণে ঝিনাইগাতী বাজারে অবস্থান নেয়।

পরক্ষণে খবর আসে ‘ফাহমী গোলন্দাজ সোহেল’ নামের এক বিএনপি কর্মী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে, ‘জামায়াতের বাদলকে পেলে জ/বা/ই করা হবে’। এ নিয়ে শুরু হয় চরম উত্তেজনা।

পাশের বাজারে দেশীয় অ/স্ত্র নিয়ে অবস্থান নেওয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং জেদ ধরে তারা বাদলকে এই রাস্তা দিয়ে গেলেই আঘাত হানবে। কিন্তু জামায়াত প্রার্থী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা শ্রীবরদী উপজেলার নেতাকর্মীরা নিজ এলাকায় ফিরতে হলে, বাজার হয়ে যেতে হবে। জামায়াত প্রার্থী জীবন গেলেও বাজারের রাস্তা দিয়েই যাওয়ার জেদে অনড় থাকেন। প্রশাসন প্রার্থীকে নিরাপত্তা দিয়ে ওই রাস্তায় দিয়ে একা পাড় করে দেওয়ার প্রস্তাব করে। তবে প্রার্থী কর্মী সমর্থকদেরও নিরাপত্তা দিয়ে রাস্তা পার করিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বারবার বলতে থাকেন, আমি পালিয়ে যাব না।

এ সময় মাইকে বিএনপির কেউ একজন উত্তেজক ভাষণ দেয়, গুপ্ত জঙ্গী সংগঠনকে প্রত্যাখান করেছে মানুষ। বলে দেয়, বাদলকে ঘুরে যেতে হবে। নতুবা শ্রীবরদীর লোকজনকে মারা হবে। ইউএনও এবং পুলিশ বিএনপির কর্মীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে রাজি করাতে পারেনি।

সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম এলাকায় থাকা জামায়াতের হাজারখানেক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। এই সময়ে দুই পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় পিছু হটলেও, বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তা ছাড়েনি। সেনাবাহিনী ও পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়।

মিনিট ১৫ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা ধাওয়া এবং হামলা করে। ধাওয়ায় জামায়াত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে রাস্তা এবং উত্তরে স্টেডিয়ামের দিকে চলে যায়। পেছনে পরে যান জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তাঁকে তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা একা পেয়ে কোপায়।

প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানাই, পুলিশ যদি বাজারের রাস্তা অবরোধ করা বিএনপির কর্মীদের সরে যেতে বাধ্য করত কিংবা জামায়াতের প্রার্থীকে ঘুরে যেতে বাধ্য করত- তাহলেও প্রাণহানীর মত কিছু ঘটত না।

পাল্টাপাল্টি হামলায় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাই। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০জন আহত হন।