ঢাকা , বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলোচিত (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমার পদত্যাগের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত একটি ফেসবুক গ্রুপে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান সর্ব মিত্র চাকমা। পরে নিজের ফেসবুক পেজেও পৃথক এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমা উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে বহু প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা চালু করা, যানবাহন চলাচল সীমিতকরণসহ একাধিক প্রস্তাব প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

যা লিখেীছলেন সর্ব মিত্র:

আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ , অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ , ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণ সহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড , সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই _ নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানি ব্যাগ চুরি – সাইকেল চুরি সহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।

এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায় , বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না , হেনস্তার শিকার হয়।

ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে , এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা।

কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গতমাসে , সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায় , আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতা সহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।

আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি , একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের , নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও।

কিন্তু , যত যাই হোক , আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের উর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন , মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।

আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিই নি। কাজ করা যেখানে কঠিন , অসম্ভব , সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।

সর্বাধিক পঠিত

এই শহরকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলবো – ডা.শফিকুর রহমান

আলোচিত (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমার পদত্যাগের ঘোষণা

আপডেট হয়েছে : ০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত একটি ফেসবুক গ্রুপে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান সর্ব মিত্র চাকমা। পরে নিজের ফেসবুক পেজেও পৃথক এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমা উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে বহু প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা চালু করা, যানবাহন চলাচল সীমিতকরণসহ একাধিক প্রস্তাব প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

যা লিখেীছলেন সর্ব মিত্র:

আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ , অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ , ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণ সহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড , সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই _ নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানি ব্যাগ চুরি – সাইকেল চুরি সহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।

এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায় , বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না , হেনস্তার শিকার হয়।

ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে , এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা।

কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গতমাসে , সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায় , আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতা সহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।

আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি , একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের , নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও।

কিন্তু , যত যাই হোক , আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের উর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন , মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।

আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিই নি। কাজ করা যেখানে কঠিন , অসম্ভব , সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।