মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিক পার্টির সারাদেশে দশ দিনব্যাপী কর্মসূচির কুমিল্লা বিভাগীয় জেলা সদরের স্টেশন ক্লাবে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবাই হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়ে হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করেছি। কিন্তু সেই গণভোটের গণনায় কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতে। গণভোটের বৈধতাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে আদালতে। আমরা কি সেটা মানবো? মানবো না। যদি গণভোটের রায়কে আদালতে নিয়ে যায় তাহলে আমরাও যাব রাজপথে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশে এখন কি হচ্ছে? আপনারা কি বাংলাদেশে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ছিলেন না! আমরা সবাই কিসের পক্ষে ছিলাম। কথা খুবই পরিষ্কার আমরা জুলাইয়ের মত স্লোগান দিতে চাইনা হাইকোর্ট না রাজপথ। কিন্তু এই স্লোগান দিতে আমাদেরকে বাধ্য করবেন না । জাতীয় সংসদ হয়েছে সংসদে জাতীয় সংস্কার পরিষদ কে ঘোষণা করতে হবে। গণভোটের গনরায় অনুযায়ী সকল সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে । অন্যথায় এর বিকল্প আমরা কোন কিছু মেনে নেব না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমসিপি আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের কাছে অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য দাবি জানাতে হবে। শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠালে ভারতের সাথে সম্পর্ক হবে না। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে অবশ্যই জুলাই গণহত্যার বিচার, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে হবে। শহীদ উসমান হাদীর খুনিদেরকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠাতে হবে। তারপরেই ভারতের সাথে সুসম্পর্কের বিষয়ে আমরা বিবেচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোকে এবং জনগণের ম্যান্ডেট কে আদালতে নিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না। আদালতকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না । বিজ্ঞ আদালতের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হাজারো মানুষের রক্তের মধ্য দিয়ে আজকের প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতিগণ বসেছেন, ফলে গণঅভ্যুত্থান কিন্তু এখনকার আদালত ,এখনকার নির্বাচন এবং সরকার সব কিছুর বৈধতা।
তিনি আরো বলেন, যদি সংবিধানের দোয়ায় দেওয়া হয় তাহলে সংবিধান হিসেবে নির্বাচন হয় নাই, ইন্টেরিম হয় নাই, তারেক রহমানের সরকারও তৈরি হয় নাই।
যদি পুরনো সংবিধানের কথা বলা হয় তাহলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা কে এখনকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে। বর্তমান সরকার কি সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত কিনা? আমরা তার কাছে সেটা শুনতে চাই . অযথা জল ঘোলা করবেন না। সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে ,বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে।
কুমিল্লা বিভাগীয় এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নাহীদ ইসলাম বলেন, আজকে এনপিপির সকল গুরুত্বপূর্ণ নেতাই কুমিল্লা জেলায় এসেছেন । বৃহত্তর কুমিল্লা থেকেই কিন্তু এনসিপির কার্যক্রম কেন্দ্রীয় নেতা তৈরি হয়েছে । এটা আমাদের জন্য অনেক সম্ভাবনার । কুমিল্লায় মুজিববাদের জম হাসনাত আব্দুল্লাহ রয়েছেন যিনি নির্বাচিত হয়েছেন। এই কুমিল্লা রয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের ভ্যানগার্ড মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া এবং বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান চাঁদাবাজদের জম নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আবির্ভূত হয়েছে এই ইলেকশনে । আপনাদের সন্তান চাঁদাবাজ সন্তান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঢাকায় নেতৃত্ব দিচ্ছে । কুমিল্লাবাসী কেউ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কুমিল্লা থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে ইনশাআল্লাহ ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাবিদ নওরোজ শাহের সঞ্চালনায় এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, কুমিল্লা মহানগর জামাতের আমির কাজী দীন মোহাম্মদ, মহানগর এবি পার্টির সভাপতি মিয়া মো. তৌফিক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা এবি পার্টির সভাপতি গোলাম সামদানি,জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জাতীয় ছাত্র শক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।





















